শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০০৯

ওরছ শরীফের তাৎপর্য


ওরছ শরীফের তাৎপর্য


ওরছ আরবী শব্দ যার আভিধানিক অর্থ শাদী। অর্থাৎ মিলন, মহা মিলন। আলস্নাহর অলিগণের ওফাত বা বেছালত দিবস তাদের জন্য ইয়াউমুল ওরছ অর্থাৎ মহামিলন দিবস। এই দিবসের মধ্যেই অলীগণে আলস্নাহর এবং রাসুল (দঃ)-এর সাথে পরম সানিধ্য ঘটে থাকে। তাই তাছাউদ পন্থিগণ ও হক্কানী তাফসির কারকগণ ওরছ শব্দের ব্যাখ্যা দিতে গিয়া আলস্নাহ এবং রাসুল (দঃ) এর সাথে অলিআলস্নাহগণের পবিত্র আত্মাসমূহের মিলনকেই বুঝিয়াছেন। এই সম্পর্কে মিস্কাত শরীফে আজাবুল কবর অধ্যায় প্রথম ভাগেই একখানা হাদিছ রহিয়াছে। হাদীছ খানাতে বলা হইয়াছে মুনকার, নকির, ফেরেস্তা কখন কবরে মাইয়্যাতকে পরীড়্গা নেয়ার জন্য এসে তিনটা প্রশ্ন করবে।

সেই প্রশ্নের উত্তর মাইয়্যাত সঠিকভাবে দিলে তখন ফেরেস্তাদ্বয় মাইয়্যাত বলবে।নামকা নাওমাতিল উরম্নছিললাতি লা ইয়াওকেজাহু ইলস্না আহাব্বু আহলিহি ইলাইহি অর্থাৎঃ আপনি সেই কনের মত শুয়ে পড় ন যাকে ওর প্রিয়জন ছাড়া আর কেউ উঠাইতে পারে না। হাদীছ শরীফে ইহাও উলেস্নখ আছে। নবীজি উম্মতের কবরে উপস্থিত হইবে এবং নবী পাককে দেখাইয়া ফেরেস্তাদ্বয় জিজ্ঞাসা করিবে ওনার সম্পর্কে আপনার কি ধারণা? তিনিইতো সৃষ্টিজগতের দুলহা এক কথায় জামে আম্বিয়া ওয়ালিয়াগণের সৃষ্টিকর্তার সাথে মহামিলনকেই ওরছ বলে।বাস্তব অর্থে প্রতি বৎসর ওলী আলস্নাহগণের ওফাত বা বেছাল দিবসে মাজার শরীফ জিয়ারত করা, কোরআনখানী, মিলাদ মাহফিল, জিকির আজগার, মোরাকাবা, মোশাহেদার তালকিন দান, সদকা, তবারক বিতরণ ইত্যাদির ছাওয়াব পৌঁছানের অনুষ্ঠানকেই আমরা ওরছ শরীফের অনুষ্ঠান বলে থাকি। এই ওরছের উৎস হাদীছ শরীফ ও ফকিরগণের বিভিন্ন উক্তি থেকে প্রমাণ আছে। যেমন ফতুয়ায়ে শামীর প্রথম খন্ডে জিয়ারাতুল কুবুর অধ্যায় বর্ণিত আছে। এবারও ইবনে আবি শাইবাতা আম্নান নাবিয়্যি ছালস্নুলস্নাহু আলাইহে অছালস্নাম কানা ইয়াতি কুবুরা শুহাদায়ে বি আহাদিন আলা রা আছি কুলিস্ন হাওলিন।ইবনে আবিশাইবা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, হুজুর (দঃ) প্রতি বৎসর উহুদ যুদ্ধের শহীদদের কবরে তাশরিফ নিতেন। তাফছিরে কবির ও তাফছিরে দুর্রে মনসুরে উলেস্নখিত আছে নবীজি উহুদ যুদ্ধের শহীদানদের কবরে প্রতি বৎসর উপস্থিত হইয়া তাহাদেরকে ছালাম দিতেন। এমন কি চার খলিফা থেকেও অনুরূপ প্রমাণ পাওয়া যায়।বিশেষ করে মদিনা মোনোয়ারার আলিমগণ হযরত আমির হামজা (রাঃ) ওরছ মোবারক মহা ধুমধামে এখন পর্যন্তô করে থাকেন যাহার মাজার শরীফ উহুদ পাহাড়ে অবস্থিত।

মোট কথা অলিগণের রম্নহানী ফায়েজ হাছিলের জন্য আওলিয়াগণের বেছাল দিবসে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পূর্বে থেকে আজও পর্যন্তô নেককার বান্দাগণ করে থাকে আমরাও করি।কেয়ামত পর্যন্ত চলবে কোন প্রকারে বন্ধ হবে না ইনশাআলস্নাহ। এমনও প্রমাণ আছে স্বয়ং নবী পাক প্রাণ প্রেয়সী হযরত খাদিজা (রাঃ) আনহার ওফাত দিবসে উট, দুম্বা জবাই করে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন তবারক হিসাবে। আর তা দেখে হযরত আয়শা (রাঃ) আনহা নবীজিকে বলতেন ইয়া রাসুল (দঃ) কার জন্য এই অনুষ্ঠান করেন নবীজি বলেন আমি আমার খাদিজার ওফাত দিবস পালন করলাম।মুফতি গোলাম আম্বিয়া

কোন মন্তব্য নেই: